Thursday, January 19, 2017 4:16 am
Breaking News
Home / Uncategorized / ইউরোপে বাড়ছে বাংলাদেশের জুতার চাহিদা
ইউরোপে বাড়ছে বাংলাদেশের জুতার চাহিদা

ইউরোপে বাড়ছে বাংলাদেশের জুতার চাহিদা

দিন যতই যাচ্ছে জুতার আদর ততই বাড়ছে। মুখের আগে জুতার দিকে নজর যায় সবার। মানুষের বিচার জুতাতে। উনবিংশ শতাব্দীতে কচি বাছুরের চামড়ার জুতা পরে নবাবি দেখাতেন বাঙালিরা। আজ বাঙালি নিজেরা শুধু বাহারি জুতা পরছে না, পরাচ্ছে দুনিয়াকে।

বাংলাদেশের তৈরি জুতার কদর কোথায় নেই। পায়ে গলিয়ে আহ্লাদ ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রেও দেখা যাচ্ছে। জুতার সরবরাহ করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের সামঞ্জস্য রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের অন্তত ১১৫টি কারখানায় দিনরাত উৎপাদন চলছে।

চামড়া শিল্পে রফতানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে বিনিয়োগ। বিদেশি বিনিয়োগও আসছে দেশে। আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানিতে সুবিধা থাকায় ডলারেও টান পড়ছে না। সরকারি শুল্কে ছাড় রয়েছে বেম পর্যাপ্ত পরিমাণে। তবে কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বাঁচালে আরও অগ্রগতি সম্ভব। তারও ব্যবস্থা হচ্ছে। পরিকাঠামোর উন্নতি দরকার। ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরিত করার তোড়জোড় চলছে। বছরে চামড়ার উৎপাদন ২২ কোটি বর্গফুট। তার সবটা কাজে লাগে না। ৫০ শতাংশ ব্যবহৃত জুতা তৈরিতে। কিছুটা চামড়ার অন্যান্য পণ্যে। অনেকটা বেঁচে যায়। পুরোটাই উৎপাদনে ব্যবহার করা গেলে রফতানির চাহিদা অনেকটা মেটানো যাবে।

চামড়া ছাড়া সিন্থেটিকের জুতা বিদেশে খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে সিন্থেটিক জুতার উৎপাদনও বাড়ছে। কাঁচামাল তৈরিতেও বিশেষ নজর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। জুতার বাক্স আগে আনা হত চীন, ভারত থেকে। তবে এখন থেকে বাক্স তৈরিতে দেশে আর অসুবিধা নেই।

তিন বছর আগে জুতা রফতানিতে লাভ ছিল ৪১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। সেটা ক্রমশ বাড়তে বাড়তে পৌঁছেছে ৭১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারে। এবার অর্ডার বেড়েছে আরও দেড়গুণ। বিশ্ব বাজারের মন্দা কাটিয়ে জুতার বাজারের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। কারখানায় শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানো হচ্ছে প্রশিক্ষণের জন্য। টিমওয়ার্কে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। একটু সময়ের দরকার। সবকিছু ঠিকঠাক হলে রফতানি দশগুণ হবে।

আমেরিকা ছাড়াও বাংলাদেশের জুতা যাচ্ছে ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইতালি, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়ামে। রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানেরও খুব পছন্দ। চামড়ার গুণগত মান তুলনাহীন হওয়ায় রফতানি বেড়েছে, বেড়েছে চাহিদাও।

বাংলাদেশে শ্রম সস্তা বলে দামও কম; যা বিশ্বে দুষ্প্রাপ্য। ইউরোপের সব চেয়ে বড় জুতা বিক্রেতা ডাচম্যানের তিন হাজার আটশ শতাধিক শোরুম রয়েছে। অর্থনীতির শিরদাঁড়া শক্ত করতে বাংলাদেশে জুতার জুড়ি নেই। আনন্দবাজার।

এসআইএস/আরআইপি