Monday, January 23, 2017 2:15 am
Breaking News
Home / Uncategorized / মাধ্যমিক স্তরে শিখন মান: দক্ষতায় এগিয়ে ১৮ শতাংশ, পিছিয়ে ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী
মাধ্যমিক স্তরে শিখন মান: দক্ষতায় এগিয়ে  ১৮ শতাংশ,  পিছিয়ে ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী

মাধ্যমিক স্তরে শিখন মান: দক্ষতায় এগিয়ে ১৮ শতাংশ, পিছিয়ে ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী

 

 

বাংলাদেশে মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী দক্ষতায় এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে রয়েছে ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার প্রকাশিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

ওই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়,  দক্ষতা অর্জনে মধ্যম অব্স্থায় রয়েছে ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। তবে  শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের কারণ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘দেশের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের ফলে মানুষ শিক্ষামুখী। গ্রামেগঞ্জে মানুষ শিক্ষামুখী হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সময় মতো স্কুল-কলেজে যায়। গ্রামের অভিভাবকরাও আগের চেয়ে উৎসাহ নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠান। তারা সচেতন হয়েছেন।’

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের ৩২টি জেলার ৫৫টি উপজেলার ৫২৭টি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্টানের যষ্ঠ শ্রেণির ১৫৮১০ জন ও অষ্টম শ্রেণির ১৫৮১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের দক্ষতার মান যাচাইয়ের জন্য বাংলা, গণিত এবং ইংরেজি বিষয়েকে বেছে নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৭ অক্টোবর চুড়ান্ত সার্ভেটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অনেক নিচে অব্স্থান করছে ২৩ শতাংশ, ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী মধ্যম অবস্থায় এবং অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী। ইংরেজিতে ২৯ শতাংশ অনেক কম দক্ষতা অর্জন করেছে, ৫৬ শতাংশ মধ্যম এবং ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনেক কম দক্ষতা অর্জন করেছে, ৬০ শতাংশ মধ্যম এবং মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে।

আবার অষ্টম শ্রেণিতে গণিতে প্রয়োজনীয় ৮ শতাংশ দক্ষতার নিচে, ৭৩ শতাংশ মধ্যম এবং ২২ শতাংশ অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে। ইংরেজিতে ৯ শতাংশ অনেক কম দক্ষতা অর্জন করেছে, ৭২ শতাংশ মধ্যম এবং ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলায় ১৩ শতাংশ অনেক কম দক্ষতা অর্জন করেছে, ৬৪ শতাংশ মধ্যম এবং ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে।

ছাত্র এবং ছাত্রীর মধ্যে কে কোন বিষয়ে দক্ষতায় এগিয়ে ও পিছিয়ে রয়েছে, তাও এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে ষষ্ঠ শ্রেণির গণিতে ৮০ শতাংশ ছাত্র এবং ৭৫ শতাংশ ছাত্রী গড় শিখন মান র্অজন করেছে। ইংরেজিতে ছাত্র এবং ছাত্রী উভয়ই সমান ৭১ শতাংশ দক্ষতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলায় ৬৮ শতাংশ ছাত্র এবং ৭০ শতাংশ ছাত্রী দক্ষতা অর্জন করেছে।

আবার অষ্টম শ্রেণির গণিতে ৬২ শতাংশ ছাত্র এবং ৫২ শতাংশ ছাত্রী,ইংরেজিতে ৫০ শতাংশ ছাত্র, ৪৯ শতাংশ ছাত্রী এবং বাংলায় ৫৫ শতাংশ ছাত্র এবং ৫৪ শতাংশ ছাত্রী গড় শিখন মান র্অজন করেছে।

অন্যদিকে যষ্ঠ শ্রেণিতে বাংলায় সাধারণ শিক্ষায় ৭১ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৬৩ শতাংশ, ইংরেজিতে সাধারণ শিক্ষায় ৭৩ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৬৩ শতাংশ, গণিতে সাধারণ শিক্ষায় ৭৭ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৭৬ শতাংশ শিক্ষাথী গড় মান অর্জন করেছে। অষ্টম শ্রেণির বাংলায় সাধারণ শিক্ষায় ৫৬ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৪২ শতাংশ, ইংরেজিতে সাধারণ শিক্ষায় ৫১ শতাংশ ও মাদ্রাসার ৩৯ শতাংশ এবং গণিতে সাধারণ শিক্ষায় ৫৭ শতাংশ ও মাদ্রাসায়ও ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী গড় মান অর্জন করেছে।

শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্তীদের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে তুলনামুলক দক্ষতার স্কোর দেখানো হয়েছে। এখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ে গড়ে ১৩৯ স্কোর পিছিয়ে রয়েছে।

এছাড়া ২০১৩ ও ২০১৫ সালে সেকায়েপ অন্তর্ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও নমুনা হিসেবে নিয়ে পরিচালিত দুটি জরিপে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ২০১৫ সালের জরিপে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলায় ৩৭০, ইংরেজিতে ৩১৯ এবং গণিতে ৩৭৪ শতাংশ গড় দক্ষতা অর্জন করেছে। তবে ২০১৩ সালের জরিপে বাংলায় ৩৫২, ইংরেজিতে ২৯০, এবং গণিতে ৩৬৯ গড় দক্ষতা অর্জন করেছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।

তবে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে বেশি দক্ষ ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালের জরিপে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলায় ৩৯৫, ইংরেজিতে ৩৪০, এবং গণিতে ৩৯৪ শতাংশ গড় দক্ষতা অর্জন করেছে যা ২০১৩ এর চেয়ে অনেক কম দক্ষ।  ২০১৩ সালে বাংলায় ৪০৯, ইংরেজিতে ৩৩২, এবং গণিতে ৪০৩ গড় দক্ষতা অর্জন করেছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। গত সাড়ে ৭ বছরে ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তে পরিণত হয়েছে। ফলে শিক্ষার মান দক্ষতা অর্জনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে আর্থিক সচ্ছলতায়।’ প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া লার্নিং অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস (লাসি) কার্যক্রমটি সফল হয়েছে। এজন্য কার্যক্রমটি অব্যাহত রাখতে হবে।’

কার্যক্রমের ফলাফল ও সুপারিশ সুষ্ঠু ও কার্যকর উন্নয়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করে আধুনিক ও যুগোপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও মত দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসেইন, অতিরিক্ত সচিব এ এস মাহমুদ, জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

/এমএনএইচ/