Monday, January 23, 2017 2:22 am
Breaking News
Home / Uncategorized / আন্দোলনে নামলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা

আন্দোলনে নামলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা

বাংলাদেশ ব্যাংকদাবি আদায়ে অবারও আন্দোলনে নেমেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা।  প্রতি অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফার ওপর যে বোনাস দেওয়া হয়, তা কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংক চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। মিছিলে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।   একই দিন বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারটি সংগঠন সিবিএ, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স কাউন্সিল, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্যাশ এবং অফিসার্স আসোসিয়েশন জেনারেল মিলে একটি মিটিং করে। সেখানে সিবিএ সভাপতি মনজুরুল হক উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। বুধবার সকাল ১০ টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।  
এ সময় সিবিএ সভাপতি বলেন, গভর্নর আমাদের কথা দিয়েছিল ৭টি বোনাস দেওয়ার। কিন্তু বোর্ড চারটি অনুমোদন করেছে। তাও আবার পুরাতন স্কেলে।  সুতরাং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় ৫টি বোনাস উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন করা হয়েছে ৪টি। নতুন স্কেলে বেতন পেলেও পুরাতন স্কেলে বোনাস অনুমোদনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই ৫টি করে বোনাস পেয়ে আসছেন তারা।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে অফিসার্স কাউন্সিলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পর্ষদ সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা আমরা মানি না। নতুন বেতন স্কেলে অন্তত ৫টি বোনাস দিতে হবে। না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের শেষ সময়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার পর ৩ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন তারা। এরপর রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ পেলে মার্চের ১৫ তারিখ পদত্যগ করেন আতিউর রহমান। সেদিনই নতুন গভর্নর হিসেবে ফজলে কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ফজলে কবির বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশের পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেশ কিছু বিষয়ে সুযোগ সুবিধা কমিয়ে দিতে শুরু করেন। তিনি যোগদানের পরপরই এসব কাজে হাত দেওয়ার কারণে কর্মকর্তারা তার ওপর একটু ক্ষিপ্তই রয়েছেন।

জানা যায়, এক সময় কোনও কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর তাদের ছয় মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের একটি পরীক্ষা নেওয়া হতো। এ পরীক্ষায় যারা ভালো করতেন, তাদের একটি ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হতো। এ ইনক্রিমেন্ট এখন স্থগিত করা হয়েছে। তিন বছর পর পর প্রত্যেক কর্মকর্তা শ্রান্তি বিনোদনের জন্য ১৫ দিনের ছুটি এবং ভাতা দেওয়া হতে;  যা কমিয়ে আনা হয়েছে। তারা লিয়েনে ১ বছরের ছুটি নিতে পারলেও এখন সেটি ৬ মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে।  এছাড়া কাড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে।  এসব বিষয় নিয়ে আগে থেকেই গভর্নরের ওপর অখুশিই ছিলেন কর্মকর্তারা।

/জিএম/এমএনএইচ/