Monday, January 23, 2017 2:15 am
Breaking News
Home / Uncategorized / জেনারেটরের আলোতে ওয়ার্ডে ফিরলেন কুর্মিটোলা হাসপাতালের রোগীরা
জেনারেটরের আলোতে ওয়ার্ডে ফিরলেন কুর্মিটোলা হাসপাতালের রোগীরা

জেনারেটরের আলোতে ওয়ার্ডে ফিরলেন কুর্মিটোলা হাসপাতালের রোগীরা

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে নিচে নেমে যান। বিদ্যুৎবিহীন হাসপাতালের সামনের সড়কে ও মাঠে বসে-শুয়ে থেকে আড়াইঘণ্টা পর তারা জেনারেটর ও আইপিএসের আলোতে আতঙ্ক নিয়েই আবার রাত ১২ টায় ওয়ার্ডে ফেরা শুরু করেন। তবে কেউকেউ এখনও খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, এরপর সবাইকে ভেতরে নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত ৯ টা ৩৪ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসাপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মিজানুর ররহমান রাত পৌনে দশটার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাসপাতালের পঞ্চম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়।’ তবে হাসপাতালের পরিচালক বি. জে. শহিদুল গনি রাত ১১ টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালের বেজমেন্টের একটি স্টোর রুমে শর্টসার্কিট হয়ে ধোঁয়া হয়ে ওপরে উঠে যায়। এ সময় রোগীদের নিচে নামিয়ে আনা হয়। তবে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দশটার দিকে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।’
হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমাণ কেয়কজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় ছয়-সাত তলা থেকে মেনে রোগী নিয়ে হেটে দৌড়ে কিভাবে নেমেছে, তারা নিজেরাও জানেন না।
কাওসার (৩৫) নামে এক ক্যান্সারের রোগী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি পাঁচ মাস ধরে এখানে চিকিৎসাধীন। হঠাৎ ধোঁয়া দেখতে পেলাম, এরপর নার্স, চিকিৎসক ও বয়রা আগুন আগুন বলে সবাইকে নিচে নেমে আসতে বললেন। আমিও নিচে নেমে আসি। এ সময় হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না। কিভাবে নামছি নিজেও জানি না।’
হাসপাতালের সামনে খোলা মাঠের মধ্যে অনেকেই রোগী নিয়ে বসে ছিলেন। কেউ কেউ ছিলেন ফুটপাতে বসে। সুলতানা (৩০) নামে সিজারিয়ান নারীকে নিয়ে বসেছিলেন তার স্বামী সবুজ।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতপরশু স্ত্রীর সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান হয়। আগুনের সময় তার নবজাতক ও অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ছয়তলা থেকে নিচে নেমে আসি।’
অগ্নিকাণ্ডের পর অনেক স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ও সিএনজিতে করে রোগী নিয়ে অন্য হাসপাতালে চলে যেতে দেখা গেছে।
তবে হাসপাতালের পরিচালক বলেছেন, ‘কাউকে রিলিজ দেওয়া হয়নি। যারা যাচ্ছেন, তারা নিজেদের ইচ্ছাতেই যাচ্ছেন।’
হাসপাতালটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত। তবে সর্বসাধারণের চিকিৎসা করা হয়। সব সময় হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত দুই থেকে তিনশো রোগী থাকেন বলে হাসপাতালের স্টাফরা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ( ডিজি) বি. জে. আলী আহম্মেদ খান বলেন, ‘বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। এখানে বেশকিছু ত্রুটি দেখলাম। যা কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী সময়ে বলব।’
রহিমা (৩৪) নামে এক নারীর গত রবিবার অপারেশন হয়েছে। তার ভাবী নাইমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা পাঁচতলায় ছিলাম। রহিমাকে কোনও রকম ধরে নিচে নামিয়েছি। তিনি খুব অসুস্থ।’
রাত ১২ টার দিকে সরে জমিনে দেখাগেছে, হাসপাতালের জেনারেটর, আইপিএস চালু করে বিশেষ ব্যবস্থায় আলো জ্বালিয়ে রোগীদের ভেতরে নেওয়া হচ্ছে।
পরিচালক বলেছেন, ‘রাতের মধ্যেই বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হবে। সে জন্য কাজ চলছে।’
এদিকে, তবে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক রোগী এখনও ভেতরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তারা রাস্তায় বা মাঠে বসে আছে। এছাড়া লিফট না চলায় অনেকেই ছয় বা সাত তলায় উঠতে পারছে না।

আরও পড়ুন: কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

/ এমএনএইচ/