Saturday, January 21, 2017 7:22 pm
Breaking News
Home / Uncategorized / অ্যানেসথেসিয়া নিয়ে জানুন
অ্যানেসথেসিয়া নিয়ে জানুন

অ্যানেসথেসিয়া নিয়ে জানুন

সাধারণত অস্ত্রোপচার করার জন্য অ্যানেসথেসিয়া করার প্রয়োজন হয়। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৪৮৮তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. মো. মনিরুজ্জামান। বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : অ্যানেসথেসিয়া বা অজ্ঞান করা, সবচেয়ে গুরুতর যেই বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করে—জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া বা অজ্ঞান করা। অনেকের মধ্যে অজ্ঞান হওয়ার যে ভীতি সেটা সাংঘাতিক। একজন মানুষকে চিকিৎসার প্রয়োজনে অজ্ঞান করতে হয় কখন?

উত্তর : অজ্ঞান আসলে করতে হবে অস্ত্রোপচার করার জন্য। প্রথম কথা হলো কী অস্ত্রোপচার করা হবে। পেটের বা বুকের যেকোনো সার্জারি করতে হলে অজ্ঞান করতেই হবে, এ ছাড়া অস্ত্রোপচার ঠিকমতো হবে না।

অজ্ঞান করার ক্ষেত্রে অ্যানেসথেসিয়া যদি দেওয়া হয়, এর মধ্যে যদি কোল্ড সার্জারি হয়, তাহলে কিন্তু অজ্ঞান করার আগে রোগীকে পুরোপুরি পর্যবেক্ষণ করতে হয়। রোগীর অন্য কোনো রোগ আছে কি না, রক্তচাপ, হাইপারটেনশন বা তার কোনো কার্ডিয়াক সমস্যা আছে কি না বা তার অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না এগুলো দেখতে হবে। কারণ, আমরা অজ্ঞান করার ওষুধগুলো যে ব্যবহার করি, সেগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা থাকতে পারে। একে প্রি-অ্যানেসথেটিক চেকআপ বলি।

যদি প্রি-অ্যানেসথেটিক চেকআপ ঠিকমতো করা হয়, তাহলে ৯৯ ভাগের সাধারণত জটিলতা হয় না। আর প্রি-অ্যানেসথেটিক চেকআপ যদি ঠিকমতো না হয়, তাহলে সমস্যা হতে পারে। কারণ ওটার ওপর নির্ভর করছে ব্যবস্থাপনা কী হবে। অ্যানেসথেটিস্ট জানেন কোনো সমস্যা থাকলে তাকে কী দিতে হবে।

আমার পরামর্শ হলো অস্ত্রোপচার করতে হলে এমন জায়গায় করা উচিত যেখানে কোয়ালিফাইড অ্যানেসথেসিস্ট ও ভালো মানের অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশ্ন : রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়া সম্পর্কে বলুন। এখন তো দেখি অনেক বড় বড় অস্ত্রোপচার পুরো অজ্ঞান না করেও করা হয়। বিশেষ করে ওই এলাকাটা অবশ করে করা হয়।

উত্তর : আমার থিসিস ছিল রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়ার ওপরে। এটি একটি নিরাপদ অ্যানেসথেসিয়া। তবে রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়া দিতে খুব দক্ষ হতে হবে। তবে অনেক রোগী বলে আমি ঘুমাতে চাই, দেখতে চাই না। রিজিওনালে ভালো দিকটি বেশি। বেশি হলেও রোগী অজ্ঞান হচ্ছে না। রক্তচাপ, পালস এগুলো ঠিক থাকছে। তবে যেই মানুষটি অ্যানেসথেসিয়া দেবে তাকে খুব দক্ষ হওয়া লাগবে। রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়া সবাইকে দিতে দেওয়া হয় না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ অ্যানেসথেটিস্ট ছাড়া অ্যানেসথেসিয়া দিতে দেওয়া হয় না। অ্যানেসথেটিস্ট যদি দক্ষ না হয়, এখানে ঝুঁকি থেকে যায়। তবে এটি জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ার চেয়ে ভালো।

তবে একজন রোগীর যদি হার্টের সমস্যা থাকে, তাহলে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ভালো।

প্রশ্ন : এই ঘুমিয়ে থাকার মধ্যে তাকে অনেক রকম ওষুধ দেওয়া হয়। এত বড় সার্জারি হচ্ছে, অনেক সময় সার্জারির প্রয়োজনে তাকে রক্ত দেওয়া হয়? এটা মনিটর করার সময় যে অনেক মেশিন লাগানো থাকে। কী কী বিষয় মনিটর করেন?

উত্তর : জেনারেল এনেসথেসিয়ার জন্য তাকে ভেন্টিলেটরের সাপোর্ট দিতে হয়। তাহলে আমাদের দেখতে হবে তার অক্সিজেন ঠিক আছে কি না। কার্বন ডাই-অক্সাইড অপটিমাল আছে কি না। এর জন্য আলাদা মেশিন রয়েছে। রক্তচাপ নেমে যেতে পারে। রক্তচাপ ঠিক আছে কি না, পালস ঠিক আছে কি না। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রস্রাব ঠিক আছে কি না। অনেক সময় রক্তপাত হতে পারে। রক্তের ভলিউম কমে গেলে প্রস্রাব কমে যেতে পারে। রক্তচাপ কমে যেতে পারে। রক্তচাপ যেন কমে না যায়, সে জন্য আমরা ওষুধ ব্যবহার করে থাকি। ওই সময় রক্ত দিয়ে ভলিউমটাকে ঠিক করা হয়। অ্যানেসথেসিয়ার প্রধান কাজ হলো এগুলো হতে না দেওয়া। প্রতিরোধ করতে হবে।

আমি দেখছি সার্জন যখন অস্ত্রোপচার করছে তখন রক্তপাত হচ্ছে। তখন যদি রক্ত না পাওয়া যায় দ্রুত ফ্লুইড বা ওষুধ দিতে হবে, যেন রক্তচাপটি ধরে রাখতে পারি। রক্তচাপটিকে নেমে যেতে দেওয়া যাবে না।

প্রশ্ন : অনেক সময় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার পর অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়। এটা ঝুঁকির কারণ হয়—এ বিষয়ে বলুন।

উত্তর : এটাই তো বড় ঝুঁকির কারণ। মানুষের ভয় কেন হয়? যেহেতু হতাহত হচ্ছে। তাই সঠিক আবহাওয়াটা, সঠিক পর্যবেক্ষণটা, সঠিক যন্ত্রগুলো দিয়ে না করে যদি অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই ঝুঁকি থেকে যাবে। তাই এমন একটা হাসপাতালে যাওয়া উচিত, যেখানে সব ব্যবস্থা আছে।  


দেশজুড়ে সকল বিভাগের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে। Doctorola.com বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন ও কল সেন্টার ভিত্তিক ডাক্তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সার্ভিস।